এশিয়ার চিনির বাজারে আগামী বছর উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা দিতে পারে। এ পরিবর্তনের পেছনে প্রভাব ফেলতে পারে কৃষি, পরিবেশনীতি ও বৈশ্বিক বাজারের পরিস্থিতি। এছাড়া ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বব্যাপী কার্বন নির্গমন হ্রাসের লক্ষ্যে বায়োফুয়েলের ব্যবহার বাড়ানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। তাই যেসব অঞ্চলে বায়োফুয়েলের প্রধান উপাদান হিসেবে আখ ব্যবহার হয় সে অঞ্চলের চিনির বাজারে এর প্রভাব পড়বে। সার্বিকভাবে মিশ্র প্রবণতায় থাকতে পারে পণ্যটির বাজার। সম্প্রতি এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল কমোডিটি ইনসাইটসের প্ল্যাটস জরিপ থেকে এ তথ্য জানা গেছে। খবর হেলেনিক শিপিং নিউজ।
বিশ্বে চিনি উৎপাদনে থাইল্যান্ডের উল্লেখযোগ্য হিস্যা রয়েছে। দেশটিতে ২০২৪-২৫ আখ মাড়াই মৌসুম ৬ ডিসেম্বর শুরু হয়েছে। পূর্ব ও উত্তর-পূর্ব অঞ্চলের কৃষকরা প্রথমে আখ মাড়াই শুরু করেছেন। কমোডিটি ইনসাইটসের অনুমান অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ বিপণন বর্ষে (অক্টোবর-সেপ্টেম্বর) দেশটিতে আখ মাড়াইয়ের পরিমাণ হতে পারে ১০ কোটি ২০ লাখ টন, যা গত বছরের তুলনায় ২৪ শতাংশ বেশি।
বিশ্বে শীর্ষ চিনি উৎপাদনকারী দেশ ব্রাজিল। সামনের দিনগুলোয় দেশটি থেকে চিনি রফতানি কমতে পারে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক এক ব্যবসায়ী বলেন, ‘থাইল্যান্ড থেকে আমরা ২০২৫ সালের প্রথম প্রান্তিকে শক্তিশালী চিনি রফতানি দেখব। বিশেষ করে ব্রাজিলের ফসল ছাড়া বৈশ্বিক বাজারে মৌসুমি সংকটের সময়।’
এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল আরো জানায়, ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত থাইল্যান্ডে মোট মাড়াই করা আখের পরিমাণ ছিল ৪৪ লাখ ৭০ হাজার টন, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২০ লাখ ৭০ হাজার টন বেশি। এর পেছনে প্রধান ভূমিকা রেখেছে আখের সহজলভ্যতা। পাশাপাশি মিলগুলো গত বছরের তুলনায় ছয়দিন আগে তাদের কার্যক্রম শুরু করেছে।
এদিকে আবহাওয়া পূর্বাভাস অনুযায়ী, ডিসেম্বরের বৃষ্টিপাতের কারণে আখ মাড়াই কমতে পারে। তবে এটি ২০২৫-২৬ মৌসুমের আখ রোপণে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
থাইল্যান্ডে ২০২৪-২৫ মৌসুমে আখের প্রাথমিক মূল্য টনপ্রতি ১ হাজার ১৬০ বাথ নির্ধারণ করা হয়েছে, যা আগের মৌসুমের তুলনায় ১৭ শতাংশ কম।
বিশ্বে দ্বিতীয় শীর্ষ চিনির উৎপাদনকারী দেশ ভারত। ইন্ডিয়ান সুগার অ্যান্ড বায়োম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন আইএসএমএর দেয়া তথ্যানুযায়ী, ২০২৪-২৫ বিপণন বর্ষের ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত ভারতের মোট চিনি উৎপাদনের পরিমাণ ছিল ৬১ লাখ ৪০ হাজার টন, আগের বছরের একই সময় যা ছিল ৭৪ লাখ টন।
কমোডিটি ইনসাইটসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ বিপণন বর্ষে ভারতে মোট চিনি উৎপাদনের পরিমাণ হতে পারে ২ কোটি ৯৬ লাখ টন, যা ২০২৩-২৪ বিপণন বর্ষের তুলনায় ৭ শতাংশ কম। এর মধ্যে ৪০ লাখ টন চিনি ইথানল উৎপাদনের জন্য ব্যবহার করা হবে।
ভারতীয় এক সূত্রের দেয়া তথ্যানুযায়ী, চিনির দাম সাম্প্রতিক সময়ে নিম্নমুখী। এমন পরিস্থিতিতে কারখানাগুলোর মুনাফা কম হচ্ছে। তবে সরকার নতুন মৌসুমের জন্য রফতানিসংক্রান্ত কোনো ঘোষণা দেয়নি।
তবে এ বিষয়ে ভিন্নমত পোষণ করেন অন্য এক ব্যবসায়ী। তিনি বলেন, ‘নতুন মৌসুমে উৎপাদন কম হওয়ার পূর্বাভাসের কারণে মাড়াই মৌসুম শেষ হওয়ার পর অভ্যন্তরীণ বাজারে দাম বাড়তে পারে।’
ভারতে রফতানি কোটার অনিশ্চয়তা এখনো অব্যাহত রয়েছে। কারণ দেশটির সরকার ২০২৫ সালের মধ্যে ২০ শতাংশ ইথানল মিশ্রণ লক্ষ্য পূরণের জন্য যথেষ্ট সরবরাহ নিশ্চিত করতে চায়।
বাজারসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আগামী বছর ইন্দোনেশিয়ার চিনি আমদানির পরিমাণ হতে পারে প্রায় ৪২ লাখ টন। তবে পরিশোধিত চিনির জন্য কোনো আমদানি লাইসেন্স থাকবে না। ১০ ডিসেম্বর ইন্দোনেশিয়ার প্রধান খাদ্যবিষয়ক মন্ত্রী জুলকিফলি হাসান ভোগ্য চিনির আমদানির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছেন।